পার্সেলে কাফনের কাপড় পেলেন দুই শিক্ষক
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি কলেজে দুই শিক্ষকের নামে পার্সেলে কাফনের কাপড় পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে ভীতি, উৎকণ্ঠা ও নানা জল্পনা-কল্পনা।
কলেজ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ছুটির সময় প্রধান কেরানি রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি পার্সেল গ্রহণ করেন। তবে বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়নি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কলেজ খোলার পর পার্সেল দুটি খোলা হলে প্রত্যেকটিতে তিনটি করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর পর মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, পার্সেল দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। এগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদের নামে পাঠানো হয়। খামে কোনো প্রেরকের মোবাইল নম্বর না থাকলেও ‘জনি শেখসহ দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, পার্সেল দুটি গুরুদাসপুর ডাকঘর থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং একজন পিয়ন অফিসিয়াল রিসিভ নিয়ে সেগুলো কলেজে পৌঁছে দেন।
ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং থানাকে অবহিত করা হয়েছে।”
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী বলেন, “ঘটনার পরপরই জরুরি বৈঠক করেছি। এর পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছি।”
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করেছি। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, কলেজটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, সেই বিরোধের জের ধরেই ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটিকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
