শাহবাগে ছাত্রদলের হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় “কিসের সাংবাদিক” বলে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন, কালের কণ্ঠের মানজুর হোসেন মাহী, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান এবং ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন।
হামলায় ঢাকা মেইলের সাংবাদিক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালের কণ্ঠের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মানজুর হোসেন মাহী জানান, ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। পরে তিনি নিজের পরিচয় দিলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং তেড়ে আসেন।
তিনি বলেন, “আমি পরিচয় দেওয়ার পরও তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।”
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাইজিংবিডি ডটকমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক সৌরভ ইসলাম বলেন, “শফিকুর রহমান নামের এক কর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করলে আমরা প্রতিবাদ করি। এরপর কিছু জুনিয়র নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে যে আমি নাকি হামলার নির্দেশ দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে টেনে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে মারধর করে। পরে অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।”
হামলায় জড়িতদের মধ্যে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জ্বার গিফারী ইফাত, সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী, কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদল নেতা হাসানসহ আরও অনেকে ছিলেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও ইমাম আল নাসের মিশুকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদেরও সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
