ডা. শফিকুর রহমান
মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে হবে এমনভাবে, যাতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক সহযোগিতামূলক থাকে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের কারণে দেশে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পারছে। ফলে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবারগুলো আর্থিক কষ্টে পড়ছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকরাও আগের তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন বলে জানান।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তিনি সতর্ক করেন, জনগণ ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা তিনি পালন করেছেন। এমনকি তাকে দেওয়া গাড়িসহ অন্যান্য সুবিধাও লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় থাকতে হবে, তবে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করা যাবে না। কারণ শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে মালিক, শ্রমিক এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নতুন ব্যাংক আইন নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তার মতে, এই আইনের মাধ্যমে জনগণের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করার কথা জানান।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হয় এবং ভুল তথ্য প্রচারে চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, দেশের শ্রমিকদের চাহিদা খুব সাধারণ হলেও তা পূরণে সরকারগুলো ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুধাবনের ঘাটতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, একে অপরের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতা থাকা জরুরি। মালিক না থাকলে শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবে না, আবার শ্রমিক না থাকলে শিল্পও টিকবে না—এই বাস্তবতা বিবেচনায় উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার।
সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, শ্রমিকদের দায়িত্ব শুধু মালিকদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে রাষ্ট্রকেও এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং শ্রমিকদের সন্তানদের উন্নত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির আ.ন.ম. শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সংলাপই হওয়া উচিত প্রধান উপায়। অতীতে শ্রমিকদের অনেক সময় বিভিন্ন স্বার্থে ব্যবহার করা হলেও তাদের অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।
