ত্রয়োদশ সংসদ: ২৫ বছর পর সবচেয়ে কম নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নারী প্রার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ৭ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে এই একই সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারীরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় চলা নারীবিদ্বেষী প্রচারণা এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ তাদের ভোটে প্রভাব ফেলেছে।
দলগুলোর মনোনয়ন নীতিও আগের মতোই ছিল। জুলাই আন্দোলনের পর নারী অধিকারকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন হার বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো উচ্চ পদে নারী প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীবিদ্বেষী পরিস্থিতির কারণে সীমাবদ্ধ থেকেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর দলগুলো ৫ শতাংশ নারী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েও সেই অঙ্গীকার পূরণ করেনি।
নির্বাচনে জয়ী সাতজন নারীর মধ্যে ছয়জন বিএনপির এবং একজন স্বতন্ত্র। বিজয়ীরা হলেন:
মানিকগঞ্জ-৩: বিএনপির আফরোজা খানম
ঝালকাঠি-২: বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো
সিলেট-২: তাহসিনা রুশদী
নাটোর-১: বিএনপির ফারজানা শারমিন
ফরিদপুর-২: বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম
ফরিদপুর-৩: বিএনপির নায়াব ইউসুফ আহমেদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা
রুমিন ফারহানা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি মোট ১০ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল।
এই সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০। সরাসরি নির্বাচিত ৭ জন নারীসহ মোট নারী সংসদ সদস্য সংখ্যা হবে ৫৭, যা মোট সংসদে ১৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। নির্বাচনে মোট ৮৬ জন নারী প্রার্থী ছিলেন।
নাটোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, সমাজে নারীদের বৈষম্যের দৃষ্টিতে দেখা হয়। নারীর প্রতি বৈষম্য ও অপপ্রচারের কারণে বেশি নারী জয়ী হননি। তবে আমি প্রমাণ করব যে নারীরাও পুরুষদের চেয়ে বেশি কাজ করতে পারে।
আরো পড়ুন : ৩০ বছর পর যে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি
ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই নারীবিদ্বেষী প্রচারণা ছিল। আরও বেশি নারী মনোনয়ন ও সচেতনতা বাড়ালে নারীরা আরো বেশি নির্বাচিত হতেন।
এর আগে সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে গবেষণা দেখিয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭৩-১৯৭৫ মেয়াদে প্রথম সংসদে ১৫ সংরক্ষিত নারী আসন ছিল। দ্বিতীয় সংসদে নির্বাচিত নারী ও সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে ৩২ জন নারী সদস্য ছিলেন। পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৫-৭০ জনের মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে যথাক্রমে ১৮, ২৩ ও ১৯ নারী সরাসরি নির্বাচিত হন।
সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বরাবরই কম। সংস্কার কমিশনের মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, এবার নারীর তুলনায় পুরুষরা ২২ গুণ বেশি মনোনয়ন পেয়েছেন। জয় হয়েছে ১৫ শতাংশ নারীর, যা মোটামুটি সন্তোষজনক। ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব মাঠপর্যায় থেকে গড়ে তোলা ও নির্বাচনের আগে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
