×

চিত্র বিচিত্র

মানুষের তৈরি শব্দদূষণে পাখিদেরও শান্তি নেই, আগ্রাসী হচ্ছে কখনো

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এএম

মানুষের তৈরি শব্দদূষণে পাখিদেরও শান্তি নেই, আগ্রাসী হচ্ছে কখনো

ছবি: সংগৃহীত

নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, মানুষের তৈরি শব্দদূষণ বিশ্বজুড়ে পাখিদের আচরণ ও প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রায় চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গাড়ি, বিমান, নির্মাণকাজ ও শহরের নানা কোলাহল পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে প্রিসেডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি বি জার্নালে। 

এতে ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৬০ প্রজাতির পাখি নিয়ে করা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শব্দদূষণ পাখিদের যোগাযোগ, খাবার খোঁজা, শিকারি থেকে বাঁচা ও বাসা তৈরির আচরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রজননের সাফল্য কমে যাচ্ছে।

পাখিরা বেঁচে থাকার জন্য শব্দের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তারা সঙ্গী খুঁজতে গান গায়, বিপদের সংকেত দিতে ডাক দেয় এবং ছানারা ক্ষুধার কথা জানান দিতে ডাক দেয়। কিন্তু আশপাশে বিকট শব্দ থাকলে তারা নিজেদেরই সংকেত ঠিকভাবে শুনতে পারে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মিলন আচরণ ব্যাহত হয়, পুরুষ পাখিরা গান বদলে ফেলে এবং মা-বাবা ও ছানার মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাটির কাছাকাছি বাসা বানানো পাখিরা প্রজননে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শহরের পাখিদের শরীরে মস্তিষ্কের চাপের হরমোন বেশি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর তুলনায় শব্দদূষণের ক্ষতি এখনো ততটা গুরুত্ব পায়নি।

শব্দদূষণ কমানোর কিছু উপায়ের কথাও বলা হয়েছে। যেমন নতুন ধরনের নির্মাণ উপকরণ ও নকশা ব্যবহার করে শব্দ কমানো সম্ভব। গবেষকদের মতে, সচেতনতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া এখন খুব প্রয়োজন।

যানবাহনের শব্দদূষণ শুধু মানুষ নয়, পাখিদের মধ্যেও ‘রোড রেজ’ তৈরি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচণ্ড শব্দের কারণে গালাপাগোস দ্বীপের ইয়েলো ওয়ার্বলার পাখিরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে।

অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রিয়ার কনরাড লরেঞ্জ রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা চালান। তারা দেখেছেন, যানবাহনের শব্দ পাখিদের নিজেদের মধ্যকার সতর্কবার্তা ঢেকে দেয়। ফলে নিজেদের এলাকা রক্ষায় তারা শারীরিক সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ছে।

গবেষকরা ফ্লোরিয়ানা ও সান্তা ক্রুজ দ্বীপে ৩৮টি জায়গায় পরীক্ষা চালান। সেখানে স্পিকারের মাধ্যমে পাখির ডাক বাজানো হয়, যা অনুপ্রবেশকারীর উপস্থিতি বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। একইসঙ্গে বাজানো হয় রেকর্ডকৃত যানবাহনের শব্দ।ফলাফল বলছে, যেসব পাখির এলাকা সড়কের পাশে, তারা আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অন্যদিকে, যারা তুলনামূলক দূরে ছিল, তারা কম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

গবেষক ড. ক্যাগলার আকচাই বলেন, পাখিরা গানের মাধ্যমে তাদের এলাকা রক্ষা করে। কিন্তু বাহ্যিক শব্দ এই সংকেতকে ব্যাহত করলে, শারীরিক আগ্রাসনই তাদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: এএফপি

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App