×

জাতীয়

লোডশেডিং ছাড়াল ৪ হাজার মেগাওয়াট, দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

লোডশেডিং ছাড়াল ৪ হাজার মেগাওয়াট, দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি

চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বুধবার। ছবি : সংগৃহীত

গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। জ্বালানি সংকটে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সরকারি তথ্যমতে, কয়েক দিন ধরে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। তবে বিতরণ কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, প্রকৃত ঘাটতি সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বুধবার।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট। যদিও বেসরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত লোডশেডিং চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। একই সময়ে পিজিসিবির ওয়েবসাইটে ছয় বিতরণ কোম্পানির সম্মিলিত লোডশেডিং দেখানো হয় ২ হাজার ৪৯৫ মেগাওয়াট।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেলচালিত কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।

আদানির সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর একটি ইউনিটের বিয়ারিং থেকে সতর্কসংকেত পাওয়া গেলে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করা হয়। মেরামত শেষ হতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। মঙ্গলবার রাত ১২টায় আদানি থেকে ১ হাজার ৪৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও রাত ২টায় তা কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে নেমে আসে। বুধবার বিকেল ৪টার তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ ছিল ৭৪৬ মেগাওয়াট। এতে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।

এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অভাবে দেশে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াটে। উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধানের কারণে এ সময় প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দিতে হয়। দুপুরের পর গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়তে থাকে এবং রাতে তা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিজিসিবি রাতের জন্য সর্বোচ্চ চাহিদা ১৬ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট নির্ধারণ করেছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টায় চাহিদা ১৬ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট—ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট।

পিজিসিবির তথ্য বলছে, দেশে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে ১৩টি, জ্বালানি তেলের অভাবে ৯টি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ৮টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৭টি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেগুলো থেকে রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। খরচ বেশি হওয়ায় ডিজেলচালিত পাঁচটি কেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকটে সেখান থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে। চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও মোট উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় ঘাটতি পূরণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

দেশজুড়ে ভোগান্তি

মাসের শুরুতে লোডশেডিং বাড়লেও ঢাকায় তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে। রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাজীপুর, কুষ্টিয়া, নাটোর, নোয়াখালী, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেক বা তারও কম হওয়ায় দিন-রাত দফায় দফায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। টঙ্গী, কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈর এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার কারখানায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কারখানা মালিকদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদনে ধস নামবে এবং ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সংকট দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন : ভারত থেকে এলো আরো ৭ হাজার টন ডিজেল

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৬ থেকে ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৭ মেগাওয়াট। ফলে দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও রোগীরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাটোরে দিন-রাতে চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং হচ্ছে। সন্ধ্যায় ১৫৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯৩ মেগাওয়াট। একই জেলার লালপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না।

নোয়াখালীতে ৯ লাখের বেশি গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদার তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৩০-৪০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর দীর্ঘ সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের হাতপাখা দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেসরকারি কেন্দ্রের জন্য ভর্তুকি ছাড়

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মার্চ মাসের বকেয়া বিল পরিশোধে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ভর্তুকি ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেট অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ অর্থ স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরপিপি) বিল পরিশোধে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে দেওয়া হবে। এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাত থেকে বরাদ্দ করা হবে।

তবে এই ভর্তুকির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অনুমোদনবিহীন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিপরীতে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হাম রোগীর জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ

হাম রোগীর জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ

২০২৫ সালের প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, ১১ শিক্ষককে অব্যাহতি

২০২৫ সালের প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, ১১ শিক্ষককে অব্যাহতি

হামে ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

হামে ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

দুই বছর ধরে বন্ধ যমুনা ডিপো, পড়ে আছে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল

দুই বছর ধরে বন্ধ যমুনা ডিপো, পড়ে আছে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App