লোডশেডিং
মোবাইল সেবা চালু রাখতে যৌথ সভায় বসছে বিটিআরসি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ফাইল ছবি
জ্বালানি সংকটকালীন মোবাইল ফোন সেবা চালু রাখতে অপারেটর এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে টাওয়ার, ডেটাসেন্টারসহ মোবাইল সেবার অবাকাঠামোগুলো সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে জেনারেটর চালু রাখা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে যে কোনো সময় দেশের মোবাইল সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। বিদ্যুৎ পাওয়া নিশ্চিত করতে টাওয়ার কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, তাদের যেন ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটরদের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিটিআরসি।
টেলিকম অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পিজিসিবি, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো এবং টেলিকম সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে আরেকটি যৌথ সভা করবেন বিটিআরসি কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার বিটিআরসির এক বার্তায় বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগ সেবা নিশ্চিত করতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডেটা সেন্টার ও কোর নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও ‘লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ’ সরবরাহ করতে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিটিআরসি।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে গত ১২ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির গুরুত্ব বিবেচনায় ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সকল জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে।
এছাড়া, মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর জ্বালানি পরিবহন এবং টাওয়ার সাইটগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে গত ২০ এপ্রিল বিটিআরসি থেকে আবারও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার পাঠানো বিটিআরসির বার্তায় বলা হয়, “টেলিকম স্টেকহোল্ডারদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম নেটওয়ার্ক সচল রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতের বিষয়ে বিপিসি, মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটর এবং মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব- এর সঙ্গে বিটিআরসির একটি জরুরি সভা হবে।”
এদিকে, টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরি সেবার আওতায় এনে বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে টেলিকম টাওয়ার কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিএ)।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্প্রতি এক আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরে বিটিএ। নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি ‘বিশেষ’ জ্বালানি বরাদ্দ করার পাশাপাশি বর্তমান অবস্থা গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সারাদেশে ৪৫ হাজারেরও বেশি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে, যা বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি নির্ভর ব্যাকআপ ব্যবস্থার (জেনারেটর) ওপর নির্ভর করে সচল থাকে। ফলে চলমান জ্বালানি সংকট এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে এ খাতে।
জ্বালানি ঘাটতির কারণে নিরবচ্ছিন্ন সেবা ব্যাহত হলে সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, ফলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন কোটি গ্রাহক।
এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে বিটিএ’র অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি এবং ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল আইজ্যাক বলেন, “বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হলে এ খাত যে কোনো মূল্যে সচল রাখা প্রয়োজন, আর তাই গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামোকে জরুরি সেবার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
