আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৯ বিল সংসদে পাস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আরো নয়টিকে আইনে রূপ দিয়ে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এসব বিলের ওপর সংসদে আলোচনা ছাড়াই কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া বিলগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছিল, এগুলো যেন হুবহু পাস করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল উত্থাপন করলে তা সরাসরি পাস হয়।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপনকালে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সরকার গুমের বিচার করতে বদ্ধপরিকর এবং এই আইনে তার প্রতিফলন ঘটেছে।
বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে অনাহূত উল্লেখ করে বলেন, নির্দিষ্ট সময় এলে এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের কার্যপ্রণালী মেনে আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সংশোধন), সিভিল কোর্টস (সংশোধন), ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) এবং রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। সবগুলোই কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কয়েকটি বিলও এদিন পাস হয়, যেগুলো মূলত নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তিনটি বিল উত্থাপন করেন। এগুলো হলো—ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল।
দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!’
এছাড়া ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ও একইভাবে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
উল্লেখ্য, সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিল পাস একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়।
