বিসিবি নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদন জমা
তদন্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আসিফ মাহমুদ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আগের নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত মাসে গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটি বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রোববার (৫ এপ্রিল) এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
তবে প্রতিবেদন জমার চেয়ে বেশি আলোচনা চলছে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেয়া এবং বিষয়টি নিয়ে তার দেওয়া ফেসবুক পোস্ট ঘিরে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি— প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছেন এবং রাজি না হলে চাপ সৃষ্টি করছেন।’
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমাকে সাক্ষাৎকারের জন্য জানানো হয়, তখন আমি জানতে চেয়েছিলাম— তারা বিচারাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত বিষয়ে তদন্ত করতে পারে কি না। এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাইনি। তাই নিয়মবহির্ভূত ও আদালত অবমাননার মতো কাজে আমি অংশ নিইনি।’
অন্যদিকে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেয়া বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টাকে আমরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আসেননি।’
গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না তা যাচাই করা। তদন্তের জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশ বিসিবির নির্বাচন বয়কট করে। একইসঙ্গে তারা ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ায়। ফলে এখনও বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়নি। পরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হলে ক্রীড়া সংগঠকরা বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় এনএসসির কাছে।
