যেসব সুযোগ–সুবিধা পান সংসদ সদস্যরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২৯৭টি আসনে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত নানা সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা ভোগ করবেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের জন্য বেতন ও সুবিধা ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’-এর মাধ্যমে নির্ধারিত। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ সংশোধন ২০১৬ সালে হয়েছে।
আইন অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত মাসিক বেতন ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা পান। এমপি মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। নির্বাচনি এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন : নতুন সরকার গঠন যেদিন
পরিবহন সুবিধায় সংসদ সদস্যরা মাসে ৭০ হাজার টাকা পান, যা গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা পাওয়া যায়।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা আরো কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে রয়েছে লন্ড্রি ভাতা এক হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ ব্যয় ভাতা ৬ হাজার টাকা, যা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নির্ধারিত।
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। মেয়াদকালে একজন সংসদ সদস্য সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন গাড়ি আমদানি করার সুযোগ রয়েছে।
ভ্রমণ সুবিধায় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসম্পর্কিত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া দেশের ভেতরে বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা রয়েছে।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় দায়িত্ব পালন করলে দৈনিক ৭৫০ টাকা দায়িত্ব ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়। সভায় উপস্থিত থাকলে দৈনিক ৮০০ টাকা ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়া যায়।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এছাড়া মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে, যা দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর।
প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ প্রদান করা হয়।
আইনে আরো বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা যে সব ভাতা পান, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো কর দিতে হয় না।
