ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের মধ্যেই সৌদিতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে পাকিস্তান। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এ তথ্য নিশ্চত করেছে। সৌদির সঙ্গে করা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবেই পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলের রাজা আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের পাঠানো যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এসব যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে ব্যবহার হতে পারে কি না।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এক দেশের ওপর হামলা হলে অন্য দেশ তা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।
আরো পড়ুন : সমঝোতার ব্যর্থতা ইরানের জন্যই ক্ষতিকর: জেডি ভ্যান্স
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। সে সময় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয় দেশটি। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়ও আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের উদ্যোগেই ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে একই সময়ে সৌদিতে যুদ্ধবিমান পাঠানো পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে সৌদির প্রতি তাদের কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সৌদির মাটি ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চেয়েছিল। এ বিষয়টি পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করেছেন দার।
এদিকে, ইরান সৌদিতে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রিয়াদ সফর করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। একই সময়ে পাকিস্তান সৌদিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেয়।
চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব পাকিস্তানে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া সৌদিতে প্রায় ২৫ লাখ পাকিস্তানি কর্মরত, যা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব কারণেই পাকিস্তান সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে আগ্রহী। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইমতিয়াজ গুল বলেন, কয়েকটি যুদ্ধবিমান সামরিকভাবে বড় সহায়তা না হলেও এটি একটি কৌশলগত বার্তা—পাকিস্তান চুক্তি অনুযায়ী সৌদির পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে এটি ইরানের প্রতিও একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
