যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পাকিস্তানের নেতৃত্বে চালানো এ উদ্যোগ কার্যত কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। তেহরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে কোনো কর্মকর্তা পাঠাতে আগ্রহী নয়। ফলে আলোচনার সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা তাদের কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’। এর ফলে বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তুরস্ক ও মিশর এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। ইসলামাবাদের বাইরে সম্ভাব্য নতুন ভেন্যু হিসেবে কাতার ও ইস্তাম্বুলের নাম আলোচনায় এসেছে, যাতে কোনোভাবে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা টিকিয়ে রাখা যায়।
আরো পড়ুন : বাণিজ্যের আড়ালে ইরানে যুদ্ধের জ্বালানি পাঠাচ্ছে চীন
এর আগে এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য একটি চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে পারে—এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এদিকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
একইদিন ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি চাইছেন। তবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ‘মুক্ত ও নিরাপদ’ না হলে তিনি এমন কোনো প্রস্তাব বিবেচনা করবেন না।
তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, সেই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠালেও তেহরান তা নাকচ করেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল বলে জানা গেলেও সংশ্লিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
