যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় প্রস্তুত ইরান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালে পারমাণবিক চুক্তিতে সমঝোতার পথে হাঁটতে প্রস্তুত ইরান, এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি। তেহরানে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়ে আন্তরিকতার প্রমাণ এখন ওয়াশিংটনকেই দিতে হবে।
তাখত-রাভাঞ্চি জানান, যদি তারা সত্যিই আন্তরিক হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সমঝোতার পথে এগোতে পারব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আলোচনায় অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে আছে তেহরান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি চান, তবে ইরানের সঙ্গে তা করা খুবই কঠিন।
এর আগে ওমানে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাখত-রাভাঞ্চি জানান, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফার আলোচনা মোটামুটি ইতিবাচক ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যদিও এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সময়োপযোগী নয় বলে সতর্ক করেন। ট্রাম্পও ওই আলোচনা ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ইরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা (ডাইলিউট) করার প্রস্তাবকে সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রায় অস্ত্রমানের কাছাকাছি এই সমৃদ্ধকরণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যদিও তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, আমরা আমাদের কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, যদি তারা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়। তবে সব নিষেধাজ্ঞা নাকি আংশিক প্রত্যাহার, এ প্রশ্নে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
আরো পড়ুন : ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সময় ইরান স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ ১১ হাজার কেজি ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। সেই চুক্তি থেকে ট্রাম্প তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও রাশিয়া পুনরায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
ইরানের প্রধান দাবি, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, তাদের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রও এখন বুঝতে পেরেছে যে চুক্তি চাইলে পারমাণবিক বিষয়েই মনোযোগ দিতে হবে। শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবি আর আলোচনার টেবিলে নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে সম্প্রতি ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কোনো সমৃদ্ধকরণ চাই না।
ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই বিষয়টিকে চুক্তির অংশ করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রই আমাদের রক্ষা করেছে। নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থেকে আমরা কীভাবে সরে দাঁড়াব?
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ট্রাম্প চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকিও দিয়েছেন। গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর পদক্ষেপের পর উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
তাখত-রাভাঞ্চি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা সবার জন্যই ভয়াবহ হবে। ইরান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য সংঘাতে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পূর্বের হামলায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানি এড়ালেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানান তাখত-রাভাঞ্চি। কাতারসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখছে। তিনি দাবি করেন, অঞ্চলজুড়ে প্রায় সর্বসম্মত মত হলো, যুদ্ধ এড়াতে হবে।
আলোচনা প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে ইসরায়েল চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। গত জুনে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয়, যা তেহরানের আস্থায় বড় আঘাত হানে। সে সময় ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে নতুন দফা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল।
তবু জেনেভার পরবর্তী বৈঠক নিয়ে আশাবাদী ইরান। তাখত-রাভাঞ্চির ভাষায়, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে অপর পক্ষকেও প্রমাণ করতে হবে যে তারাও আন্তরিক।
