ঘুমের মধ্যে বালিশে লালা পড়া হতে পারে রোগের লক্ষণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দেখেন বালিশে লালা পড়ে ভিজে গেছে। অনেকের কাছে বিষয়টি অস্বস্তিকর বা লজ্জাজনক মনে হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে এমন হওয়া স্বাভাবিক। তবে এটি যদি নিয়মিত ঘটে, তাহলে তা কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের কান, নাক ও গলা বিভাগের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অধ্যাপক ল্যান্ডন ডুইকা বলেন, অনেক সময় অতিরিক্ত মদ্যপান বা ভারী খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে মানুষ অজান্তেই লালা ফেলতে পারে। কিন্তু যদি প্রায় প্রতিদিন সকালে বালিশ ভেজা অবস্থায় ঘুম ভাঙে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তার মতে, এটি ঘুমজনিত সমস্যা বা স্নায়বিক রোগ, যেমন পারকিনসন রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
কেন বালিশে লালা পড়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, লালা পড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু সাধারণ এবং কিছু ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
স্লিপ অ্যাপনিয়া
ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে বলা হয় স্লিপ অ্যাপনিয়া। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রাতে অনেক সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হন। এতে মুখে জমে থাকা লালা বের হয়ে বালিশে পড়তে পারে।
আমেরিকান একাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগলেও তাদের অনেকেই তা জানেন না। চিকিৎসা না করলে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, বিষণ্নতা এমনকি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া
কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। নাকের পথ সংকীর্ণ হওয়া, চোয়ালের গঠনগত সমস্যা বা নাকের মাঝের হাড় বেঁকে থাকা (ডিভিয়েটেড সেপটাম) এ সমস্যার কারণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরো পড়ুন : সানস্ক্রিন নিয়ে যত ভুল ধারণা: ত্বক বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় মুখ বন্ধ রাখতে মাউথ টেপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয় এবং এতে শ্বাসরোধের ঝুঁকিও থাকতে পারে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স
পাকস্থলীর অ্যাসিড বা খাবার উল্টো পথে খাদ্যনালিতে উঠে আসাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। এতে মুখে তিক্ত স্বাদ, বুক জ্বালা ও খাবার উঠে আসার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় শরীর অতিরিক্ত লালা তৈরি করে, যা ঘুমের সময় বালিশে পড়তে পারে।
সর্দি-অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকা
মৌসুমি অ্যালার্জি, সর্দি, টনসিল সংক্রমণ বা সাইনাসের সমস্যার কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করে। এতে লালা পড়ার প্রবণতা বাড়ে।
দাঁতের সমস্যা
দাঁত ঘষা (ব্রুক্সিজম) বা উপরের ও নিচের দাঁতের সঠিক মিল না থাকলেও মুখ ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়ায় ঘুমের সময় লালা বের হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের ভঙ্গি
পাশ ফিরে বা উল্টো হয়ে ঘুমালে মাধ্যাকর্ষণের কারণে মুখের লালা সহজে বালিশে পড়তে পারে। তবে চিত হয়ে ঘুমানোর সময় যদি গিলতে সমস্যা হয়, তাহলে লালা শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত লালা পড়ার সঙ্গে নাক ডাকা, ঘুম ভাঙার পর মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা গিলতে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ঘুম পরীক্ষা (স্লিপ স্টাডি) করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যদি কোনো গুরুতর কারণ না থাকে, অনেক ক্ষেত্রে লালা পড়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সিএনএন স্বাস্থ্য প্রতিবেদন
