বিল ডাকাতিয়া
পানির নিচে ফসল, কৃষকের বুক ফাটা আর্তনাদ
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত বিল ডাকাতিয়া এখন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর ভারী বর্ষণ ও সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বিলের হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, নদী-খাল ভরাট এবং অকেজো স্লুইসগেটের কারণে বিলের পানি নামতে পারছে না। ফলে বছরের বড় একটি সময় জমি পানির নিচে থাকে। এতে কাটার উপযোগী বোরো ধানসহ হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা চরম অর্থ সংকটে পড়ছেন।
ফসল ফলাতে না পেরে অনেক কৃষক পেশা পরিবর্তন করে মৎস্য চাষ বা মাছ ধরার দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বিলের ভেতরের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে চলাচল করতে হচ্ছে ডোঙায়।
কোমরাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তার জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি না কমলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক সংকটের কারণে পানির মধ্যে কাজ করতে না চাওয়ায় অনেক জমির ধান মাঠেই পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, শোলমারী নদীসহ আশপাশের খাল পুনঃখনন এবং অবরুদ্ধ পানি নিষ্কাশনের জন্য জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। তারা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
ডুমুরিয়া, ফুলতলা এবং যশোরের অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে এই বিলের অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি।
কৃষকদের দাবি, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেও তারা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে হাজারো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।
জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলার ২নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, “দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, “বিলের পানি সরানোর বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি, বিষয়টি আমার জানা নেই।”
