উন্মুক্তের কয়েক ঘণ্টা পর আগুনে পুড়ল আ’লীগের অফিস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর ও জেলা কার্যালয় অফিস বিকেলে উন্মুক্ত করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দলটির নেতাকর্মীরা। তবে এ ঘটনার পর রাতে ওই কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আজ দুপুরে দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের খুলনা সদর থানার শঙ্খ মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত মহানগর ও জেলা কার্যালয় অফিস উন্মুক্ত করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে নেতাকর্মীরা। পরে তারা দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছবি টাঙিয়ে দেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দেয়।
এদিকে, রাতে এই ঘটনার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মীরা বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রোববার চারটার দিকে কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিলো, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, আজ বিকেলে ১০-১৫ মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করেন।
তারা শঙ্খ মার্কেট ত্যাগ করার সময় স্থানীয় দোকানদের বলেন, ‘খুব শিগগির অফিসের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে দলীয় কার্যক্রম চালু করা হবে’।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ‘গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর খুলনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটেছে।’
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিলো। এটি আমরা জানতে পেরে আশাপাশে বিভিন্ন স্থাপনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকেলে ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এসে আগ্নিসংযোগ করে। টানানো দুটি ছবি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে দেখছি।’
