ইরান-হিজবুল্লাহ’র চাপে অনিচ্ছাকৃত যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকা-ইসরায়েল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও হিজবুল্লাহ সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন এক যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছে 'যা তারা আসলে চায়নি' বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন বৈরুতের অধ্যাপক রামি খৌরি জানিয়েছে, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধবিরতিগুলো অভিনব ও তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তা একটি অত্যন্ত পরিচিত ধারাকেই অব্যাহত রাখছে।
খৌরি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ও ইরান লেবানন এবং খোদ ইরান, উভয় স্থানেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন একটি যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করেছে যা তারা আসলে চায়নি।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লেবাননকে ইরান যুদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এটা বেশ আশ্চর্যজনক যে, ইরান ও হিজবুল্লাহর মতো দুটি তথাকথিত বিধ্বস্ত ও নিশ্চিহ্ন সত্তা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এটা করতে বাধ্য করতে পেরেছে।’
কিন্তু কী বদলায়নি, সে বিষয়ে খৌরি স্পষ্ট ছিলেন।
অধ্যাপক রামি বলেন, ‘এর মাধ্যমে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং ইসরায়েলি শ্রেষ্ঠত্বের নিশ্চয়তা প্রদানের যে ঐতিহ্য, তা অব্যাহত থাকে এবং সম্ভবত আরও গুরুতর হয়, যাতে ইসরায়েল যা খুশি তাই করতে পারে।’
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘লেবাননের যুদ্ধবিরতি দলিলটি পড়লে দেখা যায়, “এটি ইসরায়েলিদের পক্ষেই যায়”।’
তিনি বলেন, ‘যখনই তারা কোনো হুমকি অনুভব করবে, তখনই তারা হামলা করতে পারে এবং ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের জন্য হুমকি মানে হলো এমন একজন মানুষ, যে নিজের দেশে স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সাথে বাঁচতে চায়।’
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি প্রসঙ্গে খৌরি বলেন, ‘একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রেক্ষাপটেই কেবল সেনা প্রত্যাহার সম্ভব।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি স্থায়ী চুক্তি হলে তারা ওই পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি স্থায়ী চুক্তি কেবল তখনই হতে পারে যদি তা ইরানের পরিস্থিতি এবং মূল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এ কারণেই হিজবুল্লাহর জন্ম হয়েছিল। এ কারণেই ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়েছিল। এবং এই বিষয়টি বারবার সামনে আসবে।’
