হরমুজ বন্ধে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্যসংকটের শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে ফসল বপনের মৌসুমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে একটি বৈশ্বিক খাদ্যসংকট ধেয়ে আসছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন,'বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান ও কেনিয়াসহ ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলোতে ফসল বপনের মৌসুম চলছে। অথচ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে কৃষি উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।'
ম্যাক্সিমো তোরেরো উল্লেখ করেন, বিশ্বের ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সারের জোগান আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই জলপথটি বন্ধ থাকায় কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার ও জ্বালানির অভাবে কম উপকরণ ব্যবহার করে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ফলনের ওপর, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের সহজলভ্যতা কমিয়ে দেবে।
জাতিসংঘের এই অর্থনীতিবিদ আরও জানান, যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতাও হয়, তবুও সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এবং বাজারের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৯০ দিন সময় লাগবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই তিন থেকে চার মাস সময়কে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, পশ্চিমা বিশ্ব ইরানি জনগণের ‘ন্যায্য অধিকার’মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছাড়বে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি বুধবার এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,'ইরানের অধিকারের সুরক্ষার আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি আমাদের দখলেই থাকবে। কোনো সমঝোতা হতে হলে নতুন চুক্তিতে অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।' যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন,'ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধকে ভয় পেলেও আমরা প্রস্তুত। দীর্ঘ যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা দুটোই ইরানের রয়েছে।'
