রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন দুই কর্মকর্তা। সংবেদনশীল পরিকল্পনার কারণে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেয়া এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করায় নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে হাজারো সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা যুক্ত করা হচ্ছে, যা হামলা ও প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হতে পারে।
নর্থ ক্যারোলিনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কখনো কখনো ভয় দেখানো প্রয়োজন হয়। সেটিই পরিস্থিতি সমাধানে কার্যকর হতে পারে।
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সামনে সব বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পেন্টাগন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময়ও দুইটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল। জুন মাসের মিডনাইট হ্যামার নামে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে যাওয়া স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালানো হয়। এর জবাবে কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার পরিকল্পনা আরও জটিল। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। পাল্টা হামলা শুরু হলে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করছে ইরান পাল্টা হামলা চালাবে এবং এতে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে অঞ্চলের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে।
বর্তমানে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এর মধ্যেই ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার অংশ করতে রাজি নয় তেহরান।
