গরমে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, খোলা খাবারে সতর্কতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে ধীরে ধীরে তীব্র আকার নিচ্ছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। প্রখর তাপদাহে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন স্বস্তি পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন ঠান্ডা পানীয় ও বাইরের খাবারের দিকে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। গরমে সুস্থ থাকতে রাস্তার খোলা খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পানীয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা, কারণ সামান্য অসতর্কতায় পানিবাহিত রোগ ও পেটের সমস্যা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কেন বাইরের খোলা খাবার বিপজ্জনক?
আরো পড়ুন: স্মৃতিশক্তি বাড়াতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ফল
১. দ্রুত পচনশীলতা: গরমে বাতাসে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে দুধের তৈরি খাবার, মাছ, মাংস বা ঝোল জাতীয় খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
২. পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি: রাস্তার ধারের লেবুর শরবত, আখের রস বা মালাই বরফ তৈরিতে ব্যবহৃত পানি ও বরফ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনিরাপদ। এর মাধ্যমে টাইফয়েড, জন্ডিস (হেপাটাইটিস এ এবং ই) এবং ডায়রিয়ার মতো রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।
৩. ধুলোবালি ও মাছি: খোলা খাবারে রাস্তার ধুলোবালি ও মাছি অনবরত বসতে থাকে। মাছি তার পায়ে করে অসংখ্য জীবাণু বহন করে আনে, যা থেকে কলেরার মতো মারাত্মক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
গরমে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন:
রাস্তার ধারে কাটা ফল (যেমন: তরমুজ, পেঁপে বা আনারস)।
উন্মুক্ত শরবত ও বরফ মেশানো পানীয়।
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও ভাজাভুজি খাবার।
দীর্ঘক্ষণ আগে রান্না করা খোলা স্টলের খাবার।
সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। এ সময় সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
বিশুদ্ধ পানি: যেখানেই যান, সাথে নিজের নিরাপদ খাবার পানি রাখুন।
বাড়ির খাবার: যতটা সম্ভব ঘরে তৈরি তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।
মৌসুমী ফল: বাইরের কাটা ফল না খেয়ে আস্ত ফল কিনে ভালো করে ধুয়ে বাড়িতে কেটে খান।
হালকা খাবার: গরমে প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাবারের বদলে সহজে হজম হয় এমন হালকা খাবার (যেমন: লাউ, ঝিঙা, পটল ও টক দই) খাদ্যতালিকায় রাখুন।
গরমের এই সময়টিতে পানিশূন্যতা ও পেটের সমস্যা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। একটু সচেতন হয়ে বাইরের খোলা খাবার পরিহার করলেই পরিবারসহ সুস্থ থাকা সম্ভব।
সতর্ক বার্তা: তীব্র গরমে শরীরে পানিশূন্যতা ও অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা পেটের সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পর্যাপ্ত স্যালাইন পান করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
