দেবের পরে কি জিৎ আসছেন রাজনীতিতে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টালিউড অভিনেতা জিৎ এর সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন নিজেকে অরাজনৈতিক বলে দাবি করা এই অভিনেতার বক্তব্যে এবার স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, অভিনেতা দেব- এর পর কি এবার রাজনীতিতে আসছেন জিৎ?
শনিবার ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন জিৎ। আর রবিবার (৯ মে) সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলার গৌরব, সংস্কৃতি, অস্মিতা ও শিক্ষার ঐতিহ্যকে যেভাবে বিশ্বের সামনে ছোট করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই বক্তব্যের পর থেকেই টালিউডে আলোচনা শুরু হয়, জিতের অবস্থান আদৌ কতটা অরাজনৈতিক।
নিজের পোস্টে জিৎ ভারতীয় জনতা পার্টির প্রশংসা করে লেখেন, এই বিজয় শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, মানুষের প্রতি বড় এক অঙ্গীকার। তিনি বলেন, বিজেপির সরকার বাংলার জন্য নতুন সকাল ও নতুন আলোর দিশা নিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন।
এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মোদি গ্যারান্টি’র প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন অভিনেতা। তার ভাষায়, কোটি কোটি মানুষের আশা ও বিশ্বাস এখন সেই প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। জিৎ আরো আশা প্রকাশ করেন, পশ্চিমবঙ্গ আবার ‘সোনার বাংলা’ হয়ে উঠবে এবং হারানো গৌরব ফিরে পাবে। পোস্টের শেষে তিনি ‘জয় হিন্দ’ লেখেন।
আরো পড়ুন : বিজেপি জয়ে মুখ খুললেন টালিউডের তারকারা
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া দেবের জায়গায় কি নতুন মুখ হিসেবে জিতকে ভাবা হচ্ছে? এর আগে দেব জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয়ে বেশি মনোযোগ দিতে চান বলেও উল্লেখ করেন। এমন প্রেক্ষাপটে জিতের রাজনৈতিক সুরে দেওয়া বার্তা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জিৎ।
আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয়ও। চলতি মাসেই মুক্তি পাওয়ার কথা জিতের নতুন ছবি কেউ বোলে বিপ্লবী কেউ বোলে ডাকাত। ছবিটি বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবনের ওপর নির্মিত এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিৎ নিজেই।
ফলে অনেকে মনে করছেন, দেশাত্মবোধক আবহ তৈরি করে অভিনেতা হয়তো নিজের নতুন ছবির প্রচারণাও এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে জিতের এই অবস্থান কেবল প্রচারণা, নাকি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত—সেটি সময়ই বলে দেবে বলে মনে করছে টালিউড মহল।
