“বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিলে, আমিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেব”
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রুশ বংশোদ্ভূত মডেল মনিকা কবির। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার সাম্প্রতিক মন্তব্যও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে গুলশান-২ এলাকায় টিকটক ভিডিও ধারণের সময় এক বৃদ্ধ পথচারীর ব্যাগের কোণা তার গায়ে লাগলে মনিকা কবির ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠের
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি ওই বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ব্যাগ ছুড়ে মেরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও মনিকা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তার কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে হাজির করার জন্য সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এদিকে সমালোচনার মধ্যেই এক মুঠোবার্তায় দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মনিকা কবির। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আপনারা মেয়েদের ওপর পানি ফেলেন ! আমি চলে গেলে এখানে কোনো বিদেশি মেয়ে আসবে না—আমি কথা দিচ্ছি। বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিলে আমিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেব।’
তিনি আরো দাবি করেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিদেশে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন।
আরো পড়ুন: রুশ মডেল মনিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং মস্কোতে বেড়ে ওঠা এই মডেলের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। পরিবারে তাকে ‘মনিশকা’ নামে ডাকা হয়। তার মা রুশ নাগরিক ম্যারিয়া গোজেন এবং বাবা একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী। বাবার ব্যবসার সূত্রে ২০১২ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন তিনি।
এর আগে খোলামেলা পোশাক ও জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক ছিল। তবে গুলশানের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
