×

অর্থনীতি

জ্বালানি মজুত কতদিন চলবে, জানালো সরকার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

জ্বালানি মজুত কতদিন চলবে, জানালো সরকার

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারেনি একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ। এতে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে আসন্ন এপ্রিল মাসে সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো সংকট হবে না। তিনি বলেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই জনগণকে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল মজুত না করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশে এখনো জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং আরো কিছু জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানিসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরো পড়ুন : দেশজুড়ে তেলের সংকট, বন্ধ পেট্রল পাম্প

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুত ছিল। তবে সংকটের আশঙ্কায় আগাম তেল কিনে রাখায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।

বর্তমানে জ্বালানি মজুতের চিত্র অনুযায়ী, ডিজেল ১ লাখ ৮৫ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। অকটেন রয়েছে প্রায় ১১ হাজার টন, যা দিয়ে ৯ দিন চলবে। পেট্রোল মজুত আছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে ১১ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।

ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা দিয়ে ২৯ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। জেট ফুয়েল রয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা ২৩ দিন চলবে। কেরোসিন মজুত আছে ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে। এছাড়া মেরিন ফুয়েল রয়েছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে বর্তমানে তিনটি বড় চাপ একসঙ্গে কাজ করছে, জাহাজ আসতে বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আতঙ্কে চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই নৌপথে সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না

উদ্বোধনের আগেই ফাটল সোয়া দুই কোটির ভবনে, আতঙ্ক

উদ্বোধনের আগেই ফাটল সোয়া দুই কোটির ভবনে, আতঙ্ক

শতভাগ শিশুকে কবে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শতভাগ শিশুকে কবে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  হজ পালনের জন্য কর্মচারীদের বেতনসহ ১৫ দিনের ছুটি দেবে সৌদি

হজ পালনের জন্য কর্মচারীদের বেতনসহ ১৫ দিনের ছুটি দেবে সৌদি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App