সিংগাইরে ওসি’র বাউল সুরে মাতলো ওরস
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের সিংগাইরের পারিল শাহী দরবার শরীফে এক অনন্য আবহ তৈরি হলো এবারের বাৎসরিক ওরস মাহফিলে। আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি আর লোকসংগীতের মেলবন্ধনে ভরে ওঠা এই আয়োজনে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এলেন সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাজাহারুল ইসলাম। দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি যেন হয়ে উঠলেন এক সুরের সাধক—গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন হাজারো দর্শক-শ্রোতাকে।
গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনদিনব্যাপী ওরসের দ্বিতীয় দিনে মঞ্চে উঠে তিনি পরিবেশন করেন লালন গীতি—“কেউ কারো নয়, দুঃখের দুঃখী” এবং জনপ্রিয় ফোক গান—“দিল্লিতে নিজামুদ্দিন আউলিয়া”। তার কণ্ঠের আবেগ, দরদ আর আত্মিক আবেদন মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়। শুধু গানই নয়, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতামূলক বক্তব্য দিয়ে তিনি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো: ইলিয়াস দেওয়ান টুটুল, উপজেলা বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন—এ যেন এক ভিন্নমাত্রার আয়োজন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।
প্রতিবছরের মতো এবারও গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পারিল শাহী দরবার শরীফের এই ঐতিহ্যবাহী ওরস উৎসব। প্রথম দিন ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনের রাত ছিল সুরের মূর্ছনায় ভরপুর—ওসি মাজাহারুল ইসলামের পাশাপাশি বাউল শিল্পী সুমন সরকার ও সুবর্ণা সরকারের পরিবেশনাও দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
আজ বুধবার (শেষ দিন) দিবাগত রাতে মঞ্চ মাতাবেন জীবন সরকার ও আলো সরকার—এমন প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছেন ভক্তরা।
উল্লেখ্য, পারিল শাহী মাজার শরীফে শায়িত আছেন প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক হযরত শাহ সুফি ইকরামুল হক ইব্রাহিম বাগদাদী (রহঃ)। জনশ্রুতি রয়েছে, তিনি হযরত শাহজালাল ইয়ামানী (রহঃ)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন এবং ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম একজন। প্রায় ৮০০ বছর আগে প্লাবিত পারিল এলাকায় আগমন করে ইসলাম প্রচার শুরু করেন তিনি। তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে এই জনপদ, আর মৃত্যুর পর তাকে এখানেই সমাহিত করা হয়। সেই থেকে ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রতি বছর আয়োজন করে আসছেন এই ওরস শরীফ।
আধ্যাত্মিকতার মায়াজালে মোড়া এই উৎসব যেন প্রতি বছরই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—সংগীত, বিশ্বাস আর মানবতার বন্ধনই আমাদের প্রকৃত শক্তি।
