বাঘাইছড়িতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২৭বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে- একটি বিদেশি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল (চায়না, মডেল : ET-83), এক রাউন্ড তাজা গুলি, ৯টি গুলির খালি খোসা, এবং পিস্তল বহনের ব্যাগ ও কভার। এছাড়া একটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও এর ৭টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়। দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৫টি চাইনিজ চাপাতি (২টি বড় ও ৩টি ছোট), ২টি ধারালো দা, ১টি লোহার হাতুড়ি ও ১টি বাটুল। সরঞ্জামগুলোর সাথে ২৬টি কাঁচের মার্বেল, ৫টি স্টিলের মার্বেল এবং ১টি পুরাতন স্কুল ব্যাগও জব্দ করা হয়েছে।"
বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯ এপ্রিল মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি এর নেতৃত্বে জীপতলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল জীপতলী ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) ক্যাপ্টেন অমিত কুমার সাহা (অপারেশন অফিসার), সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ বিজিবির একটি টহল দল।
টহল কালে ৩-৪ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থলের কাছে আসলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় চোরাকারবারিরা তাদের সাথে থাকা ব্যাগ ফেলে পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে আরো জানা গেছে, ইয়াবা ও বিদেশি অবৈধ সিগারেটের একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে চোরাকারবারিরা এই এলাকায় অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম অবৈধ চোরাচালান এবং সিগারেট পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) এর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, মারিশ্যা জোন-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও, মারিশ্যা জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাকারবারি কর্তৃক বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতিতে চোরাচালানি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বিধায় মারিশ্যা জোন কর্তৃক উক্ত চোরাচালান প্রতিরোধকল্পে সর্বদা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিযানিক টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে চোরাচালান দমন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়ে মারিশ্যা জোন কমান্ডার।
