টাকা দিলেই মেলে পাস, কলেজে শিক্ষা বাণিজ্যের অভিযোগ
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজের নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় পাস (উত্তীর্ণ) করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে কলেজেরই একটি চক্রের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে, কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব হোসেন ও নৈশপ্রহরী শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নগদ অর্থ আদায়ের এ অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন-"তদন্তে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে, যে-ই জড়িত থাকুক, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জানা যায়, নবীনগর সরকারি কলেজে আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজে অধ্যয়নরত বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রায় সাড়ে চার শত পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে- নির্বাচনী পরীক্ষায় যে সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদেরকে টেস্ট পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কলেজেরই একটি চক্র একাধিক পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ,- কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব হোসেন ও নৈশ প্রহরী শামীম মিয়া টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া প্রায় ৩০ জন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে এ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়।
টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় এইচ এস.সি চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের এমন প্রতিশ্রুতি পাওয়ার আশ্বাসে অনেক শিক্ষার্থী প্রলুব্ধ হয়ে ওই চক্রের হাতে নগদ টাকা প্রদান করেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান। কিন্তু চক্রের চাহিদা অনুযায়ী, টাকা দিয়েও সম্প্রতি ফরম ফিলআপ করতে গিয়ে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা তা করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েন।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর সাইদুল ইসলাম খানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অভিযুক্ত কলেজের দুই কর্মচারী রাজীব হোসেন ও শামীম মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে উভয়ের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম খান বলেন, - এমন ঘটনা আমাদের সবার জন্য খুবই লজ্জা ও উদ্বেগজনক। এমন ঘটনা আমাকে তদন্ত করতে হবে, কখনও ভাবিনি। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেওয়া হবে।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এটিএম রেজাউল করিম বলেন-"কলেজ প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে কোনো শিক্ষার্থী এ নিয়ে আমাদের কাছে এখনও কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওই জঘন্য চক্রের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
