৪৭ বছর পর যে আসনে জয় পেলো বিএনপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ এএম
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর (উত্তর) আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী।
এর আগে এই আসনে জেলা বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রয়াত লুৎফর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও ধারাবাহিকভাবে পরাজয়ের মুখে পড়ে বিএনপি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও জয় পায়নি, ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরফ উদ্দিন খছরু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও বিএনপি পরাজিত হয় এবং ওই আসনে বিজয়ী হন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া।
আরো পড়ুন : বিএনপির মন্ত্রিসভা, থাকতে পারেন জোটের ৩ জন
পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি পরাজিত হয়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় দলটি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করেন।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮ ভোট। ফলে ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বিএনপির এই প্রার্থী।
এই আসনে বিএনপি, ১১-দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
শনিবার জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোলাপগঞ্জ বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহিউসসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপির বিজয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। দীর্ঘ ৪৭ বছর আসনটি বিএনপির বাইরে ছিল। দলের ঐক্য এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের কারণেই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের সেলিম জানান, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান জয়লাভ করার পর আর কখনও দলটির প্রার্থী এই আসনে বিজয়ী হতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে আবারও আসনটি পুনরুদ্ধার করল বিএনপি।
