কুয়াকাটায় পালিত হয়নি মহান স্বাধীনতা দিবস
আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় কোথাও পালিত হয়নি মহান স্বাধীনতা দিবস। আজ ২৬ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হলেও কুয়াকাটার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। স্বাধীনতা দিবসে সরকারি বেসরকারি কিংবা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ কোথাও জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়নি।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় দিবসে সাধারণত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও এ বছর কুয়াকাটায় তেমন কোনো দৃশ্যমান আয়োজন লক্ষ্য করা যায়নি। প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো স্বাধীনতা দিবসে পতাকা হাতে প্রভাত ফেরী, রেলী সহ শহীদদের স্বরণে নানা আয়োজন হয়ে থাকে। তবে এবছরের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য নির্দেশনা দেন। সেই অনুযায়ী সবাই সেখানে অংশগ্রহন করে। এমন নির্দেশনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উপজেলা প্রশাসন এর এমন সিদ্ধান্ত একপেশে হয়েছে। এর মাধ্যমে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিষয় অনেক কিছুই অজানা থাকবে। বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস সম্পর্কে, জাতিসত্তা, দেশপ্রেম এমন প্রশ্নে সকলেরই অনঢ় থাকা দরকার। জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কিংবা উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চোখে পড়েনি। এতে এলাকাবাসী ও আগত পর্যটকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও পর্যটন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটায় তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপিত হচ্ছে। কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিতভাবে দিবসটি উদযাপন করা উচিত ছিল। আয়োজন না হওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।”
কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি হোসাইন আমির জানান, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে কুয়াকাটায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। তবে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “কুয়াকাটায় আলাদা করে কোনো আয়োজন নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো।”
অন্যদিকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, “স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাদ আসর দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পৌরসভার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো আয়োজন নেই। আমরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকি। সকালবেলা উপজেলা পর্যায়ে পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশগ্রহণ করেছি এবং বাকি কর্মসূচিগুলোতেও অংশগ্রহণ করবো।”
এদিকে পর্যটকদের মতে, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটায় জাতীয় দিবসগুলো আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা উচিত। এতে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। আগামী প্রজন্মের দেশের প্রতি মায়া মমত্ববোধ বাড়বে অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে।
