রাজনীতিতে আ. লীগের ভবিষ্যৎ তারেক রহমানের হাতে!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে দলটি ২০৯টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সীমিত উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কার্যক্রমনিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসা অনেকাংশে নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের অবস্থান নিলেও মাঠপর্যায়ের বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক কৌশলগতভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, এমন আলোচনা রাজনৈতিক মহলে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা একটি বড় রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক অন্য শক্তির দিকে সরে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
নির্বাচনের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন। এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে একটি সম্ভাব্য বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জোর গুঞ্জন রয়েছে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সমঝোতা হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকদের একটি অংশও বিএনপির বিজয়ে নিজেদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মাঠ উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছে।
আরো পড়ুন : শপথের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে বিএনপি
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করবে নতুন সরকারের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ওপর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় কার্যকর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সামনে রাজনীতিতে ফেরার জন্য সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক ভাষায় পরিবর্তন আনা জরুরি। একই সঙ্গে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে আছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিএনপির সামনে দুটি পথ রয়েছে। দলটি চাইলে আওয়ামী লীগকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করতে পারে। আবার চাইলে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির পথ বেছে নিয়ে আওয়ামী লীগকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে পারে।
এদিকে নির্বাচনে জামায়াতের উত্থানও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। অনেক আওয়ামী লীগপন্থীর মতে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব কমাতে তাদের দলের উপস্থিতি প্রয়োজন। যদিও এ যুক্তি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত, তবু বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ভারসাম্য তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই। তিনি বলেন, তিনি সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করেন, তা যত কঠিনই হোক।
অন্যদিকে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নিয়ে পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দলই স্থায়ীভাবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে যায় না। তাই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যেমন দলটির নিজস্ব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
