×

এশিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনায় তাকে এ সাজা দেয়া হয়েছে। তাঁকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এর মাধ্যমে তিনি দেশটির গণতান্ত্রিক যুগে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড, সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা বিনাশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। তাদের অভিযোগ, পার্লামেন্ট ঘেরাও করতে সেনা মোতায়েন এবং ছয় ঘণ্টাব্যাপী সংকটকালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে ইউন সাংবিধানিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুতর আঘাত হেনেছেন।

বিচার চলাকালে ইউন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি পুরো তদন্তকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, তৎকালীন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এক ধরনের অসাংবিধানিক পার্লামেন্টারি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, এ কথা জনগণকে জানাতেই তিনি সামরিক আইন জারি করেছিলেন।

আরো পড়ুন : দেড়শ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজর কেন?

ইউন নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল বাজেট কাটছাঁট ও অভিশংসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর সরকারকে অকার্যকর করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, সীমিতসংখ্যক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। পার্লামেন্ট দমন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে বলেন, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ভাঙার কোনো অভিপ্রায় ছিল না এবং কোনো দাঙ্গাও ঘটেনি।

বিদ্রোহের ১৪ মাস পর এই রায় ঘোষণা করা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই রাতে ইউন সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আইনসভাকে অচল করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ইউন অবশ্য দাবি করেন, তিনি ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ দমনে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

সামরিক আইন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৯০ জন আইনপ্রণেতা সামরিক ও পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে জরুরি প্রস্তাব পাস করেন, যার মাধ্যমে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। ১১ দিনের মাথায় পার্লামেন্ট ইউনকে অভিশংসন করে। চার মাস পর সাংবিধানিক আদালত তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করেন।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ের আগে সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে। সেসব রায়ে ৩ ডিসেম্বরের ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু-কে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ে সামরিক আইন প্রয়াসকে নির্বাচিত ক্ষমতার ‘স্ব-অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা প্রচলিত অভ্যুত্থানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক বলে আদালত মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ১৫ বছরের সাজা চাইলেও আদালত তার চেয়ে বেশি দণ্ড দেন।

১২ ফেব্রুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং মিনকে বিদ্রোহে ভূমিকার দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ পৌঁছে দিয়েছিলেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে ইউনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়ে ওঠে।

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হে ২০১৮ সালে দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে মোট ৩২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে আপিলে তাঁর সাজা কমানো হয় এবং ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পান। ১৯৯৬ সালে সামরিক শাসক চুন দো-হুয়ান ও রোহ তায়ে-ও ১৯৭৯ সালের অভ্যুত্থান ও গুয়াংজু হত্যাকাণ্ডে ভূমিকার জন্য যথাক্রমে মৃত্যুদণ্ড ও সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে আপিলে সাজা কমানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারাও রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পান।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে কারাদণ্ড পাওয়া প্রেসিডেন্টদের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়েছেন, ইউনের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে তেমন কিছু ঘটবে কি না, তা এখন সময়ই বলবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App