শামসুদ্দিন হীরার এক জোড়া কবিতা
শামসুদ্দিন হীরা
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
শামসুদ্দিন হীরার এক জোড়া কবিতা
তোমায় দেখি প্রেমিকচোখে প্রিয়ার বেশে
এযে আমার ৭১'র বুকের পাঁজর
আমি তোমায় ভালবাসি মায়ের মতো
আমি তোমায় এমন দেখি,
পাখ পাখালি নদীর মতোন।
যেমন দেখে ঘাস ফড়িংরা শস্যদানায়,
খুব সকালে তোপধ্বণি সূর্যসেনায়।
আগারগাঁও এর সেই ঠিকানায়,
খোঁজ নিয়ে যায় দমকা হাওয়ায়।
ঘোর আধাঁর আর চাঁদ জ্যোস্নায়,
আমি তোমায় সন্ধে দেখি,
মন্দে দেখি,ইট পাথরের খাঁজে দেখি।
ঈদে দেখি পূজায় দেখি,
প্রেমিক চোখে প্রিয়ার বেশে,
সুবিধা ভোগীর খেয়াল বশে।
আদিম রসের দগদগে নয়-
একটু কোমল, একটু প্রলয়।
যেমন দেখা বজ্র, আলো মেঘের চোখে।
আমি তোমায় তেমন দেখি;
পথের ধুলো মিছিল যেমন -আগলে রাখে।
দুখি মায়ে নিশি রাতে গুমড়ে কাঁদে।
লাল সবুজের পতাকা আজ খুবলে খাচ্ছে,
মানুষরূপী জানোয়ার আর ভন্ডসেনা।
এই তো আমার জন্মভূমির বুকের পাঁজর!
হাড়ের মধ্যে,শিরার মধ্যে কেন নাচন?
এমন তরের স্বপ্ন দেখছে মুক্তিসেনা!
আমি আগলে রাখবো আপন করে,
যেমন রাখে প্রেমিক যুগল গোলাপটারে।
গ্রহপুঞ্জে ফুঁটে উঠে উজবুকদের মুখচ্ছবি
দিবসের চিত্রকল্প অবলুপ্ত চৈতন্য
বিলায় ক্ষমতার ফুল
রাত্রির সংগীতে বাজে হিংসা দ্বেষের তান
রাতহাঁটা মানুষ কতিপয় দালাল বেগানা নেতা
পদবাচ্যে গায় মাতাল গীত
অবাক সংজ্ঞাজাত গণতন্ত্র
জটিল ঔপন্যাসিক বিচারক
আর আমরা কতিপয় উপপাদ্য
প্রহর অতলান্তে
রাত গভীর হলে
আঁধারে গেয়ে উঠে
হুতুমপেঁচার বিদ্রুপ সুর
তারস্বরে শহীদের আত্না
চিৎকার করে
কি সব চাওয়া তোমাদের?
রক্তের কাছে,
এই বিদেহী আত্নার কাছে!
নফর উজবুক কটমটে তাকায়
নীহারিকা জোৎস্নার ক্ষীণ আলোয়
রাস্তা কাঁপায়।
