×

রাজশাহী

জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, দুর্ভোগে রাজশাহী অঞ্চলের রোগীরা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, দুর্ভোগে রাজশাহী অঞ্চলের রোগীরা

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটের কারণে সেগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাবে আইসিইউ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গুরুতর রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষ করে হাম ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও সীমিত জনবল নিয়ে অস্থায়ীভাবে আইসিইউ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিইউ চালুর প্রধান বাধা হচ্ছে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট বা ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সের অভাব। বর্তমানে প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা এখনও সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন রামেকে আইসিইউ শয্যার জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রোগী অপেক্ষমাণ থাকেন।

আরো পড়ুন : রামেক হাসপাতালে হামে তিনজনের মৃত্যু

রামেক হাসপাতালের ৪০ শয্যার আইসিইউ ছাড়া বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ মিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি চারটি হাসপাতালে মোট ৫৪টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। তবে রাজশাহী ছাড়া অন্যান্য জেলার আইসিইউগুলো জনবল সংকটে অচল হয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে এসব ইউনিট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮টি আইসিইউ বেড থাকলেও জনবলের অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এমনকি বেসরকারি টিএমএসএস হাসপাতালের ১৪টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে মাত্র ৪টি চালু রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টের অভাবে ৬টি ও ১০টি শয্যা দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালেও ২০২২ সালে ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত করা হলেও জনবল সংকটে তা এখনো চালু করা যায়নি। ফলে এসব এলাকার রোগীদের বাধ্য হয়ে রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে।

আইসিইউ সেবার জন্য পুরো বিভাগের রোগীদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে রামেক হাসপাতাল। এখানে ৪০ শয্যার আইসিইউ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকলেও এটি এখনো সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। বাকিদের প্রেষণ বা শিক্ষার্থীদের দিয়ে কোনোমতে সেবা চালানো হচ্ছে।

রোগীর স্বজনরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় গেলে তাদের দ্রুত রাজশাহীতে পাঠাতে হয়, যা দূরত্বের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মশিউর রহমান বলেন, যেসব রোগীর চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে সম্ভব নয়, তাদের অবস্থার ভিত্তিতে রাজশাহীতে রেফার করা হয়।

সিরাজগঞ্জের এক শিক্ষার্থী রবিন আহম্মেদ বলেন, আইসিইউ থাকা সত্ত্বেও তা চালু না থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং অনেক সময় চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন।

মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর আইসিইউর যন্ত্রপাতি আনা হলেও জনবল না থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, আইসিইউ চালাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্স অপরিহার্য। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ও প্রেষণে এনে কোনোমতে সেবা চালানো হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আইসিইউ পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের প্রয়োজন। কিছু ঘাটতি থাকলেও প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মেয়েকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেখা সিনেমায় কী আছে

মেয়েকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেখা সিনেমায় কী আছে

যেসব শিশুকে হামের টিকা না দেওয়ার নির্দেশ

যেসব শিশুকে হামের টিকা না দেওয়ার নির্দেশ

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সরাসরি নিয়োগ

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সরাসরি নিয়োগ

এপ্রিলে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা

এপ্রিলে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App