×

জাতীয়

একাত্তরের গণহত্যাকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

Icon

ফেরদৌস আরেফীন

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

একাত্তরের গণহত্যাকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যাকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি এবং ওই অপরাধের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’কে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’কে একটি ‘উগ্রবাদী ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ল্যান্ডসম্যান।

প্রস্তাবটিতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে উল্লেখ করে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসে উত্থাপনের পাশাপাশি, মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতেতে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছেন গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান।

এই প্রস্তাবে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চলাকালীন পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং জামায়াতে ইসলামী দ্বারা অনুপ্রাণিত পাকিস্তানি বাহিনীর রাজনৈতিক মিত্রদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানানো হয়েছে। 

প্রস্তাবে  মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘যদিও সকল ধর্মের সমন্বয়ে সৃষ্ট বাঙালি জাতিকে একাত্তরে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল- কিন্তু গণহত্যা, গণধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং নির্বাসনের মাধ্যমে নির্মূল করার জন্য বিশেষভাবে হিন্দুদেরকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর সম্মিলিত অপরাধকেও হার মানায়। আর তাই আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ওই নির্মমতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক শুরু করা পরিকল্পিত সন্ত্রাসী অভিযান— যা মার্কিন কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা নথিভুক্ত হয়েছিলো— এর পুরোটাই জাতিসংঘের গণহত্যার সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়। ওই সময়ের অগণিত ভুক্তভোগী, বাংলাদেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ভয়াবহতার স্বীকৃতি দেয়া আমাদের কর্তব্য। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।’

গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান তাঁর প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিলো, কিন্তু দেরিতে হলেও অবিলম্বে স্বীকৃতিটি দেওয়া প্রয়োজন। এতে অন্তত বিশ্বের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছুবে যে, আমেরিকা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো নৃশংসতায় চোখ বন্ধ করে থাকেনা।’

প্রস্তাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যার তথ্য-প্রমাণ হিসেবে মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের গণহত্যা বিষয়ক তারবার্তাসমূহ,  ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ (৬ এপ্রিল, ১৯৭১) নামে খ্যাত বিবৃতি- যেখানে ২০ জন মার্কিন কূটনীতিক পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন, মার্কিন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন (সানডে টাইমস, ১৩ জুন ১৯৭১), তৎকালীন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির প্রতিবেদন (১ নভেম্বর ১৯৭১), ‍ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জ্যুরিস্টস-এর মুক্তিযুদ্ধকালে সংখ্যালঘূ নির্যাতন বিষয়ক প্রতিবেদন (১৯৭২) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যানের প্রস্তাবটি পড়তে এখানে এখানে ক্লিক করুন।

বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে এবং ১২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বতী সরকারের দেড় বছরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘূ হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার পরপরই, মার্কিন কংগ্রেসে এ ধরনের একটি প্রস্তাব কতটুকু গুরুত্ব রাখে- জানতে চাইলে আমেরিকা প্রবাসী কুটনীতিবিদ আরিফা রহমান রুমা ভোরের কাগজকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনাগুলোর সাথে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ধারাবাহিকতা রয়েছে। সেই একই গোষ্ঠী ধর্মকে পুঁজি করে বছরের পর বছর একই ধরনের অপরাধ করে চলেছে। সেই বিবেচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এই প্রস্তাব উত্থাপন জামায়াতের নৃশংসতাকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে সামনে আনার একটা বড় উপলক্ষ তৈরি করলো বলা যায়।’

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক থিংক ট‍্যাংক ‘সেন্টার ফর ইউএসএ - বাংলাদেশ রিলেশন্স’-এর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী রানা হাসান মাহমুদ বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংঘটিত নারকীয় এই গণহত্যার ঘটনা পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর পুরোপুরি ধামাচাপা দেয়ার যে অপচেষ্টা হয়েছিলো, তাতে এই উগ্র গোষ্ঠীটিকে ধর্মীয় লেবাসে রাজনীতির সুযোগে ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের ওপর হত্যা-নির্যাতন চালানোর সুযোগই যে করে দেয়া হয়েছিলো।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আরো এক জাহাজ আসছে

এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আরো এক জাহাজ আসছে

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য

আইএমএফের শর্ত আমাদের অর্থনীতির জন্য ‘সুইটেবল’ না

অর্থমন্ত্রী আইএমএফের শর্ত আমাদের অর্থনীতির জন্য ‘সুইটেবল’ না

কঠোর ভিসা নীতি চালু করতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড সরকার

কঠোর ভিসা নীতি চালু করতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App