গণভোট কী? কেন ও কিভাবে দিতে হবে?
হাসান শাব্বির
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
রাষ্ট্রের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকার বা সংসদের হাতে রাখলে চলে না। তখন প্রয়োজন হয় জনগণের সরাসরি মতামত—আর সেখানেই আসে গণভোট। গণভোট হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দেশের নাগরিকরা “হ্যাঁ” বা “না” ভোটের মাধ্যমে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোটও। দেশের ইতিহাসে তৃতীয় গণভোট হয়ে থাকবে। মূলত ৪টি বিষয়ের ওপর এবারের গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন-
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। আর এসব প্রশ্নের জবাবে প্রত্যেক ভোটর একটি করে “হ্যাঁ” বা “না” ভোট দিয়ে মতামত জানাতে পারবে।
এরা আগে গণভোট হয়েছিল সামরিক শাসনকালীন সময়ে এবং ক্ষমতাসীন সরকারের উদ্যোগে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসন বৈধতা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুমোদনের জন্য ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বৈধতা দিতে।
গণভোটের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের মালিক আসলে জনগণই। যখন জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন গণতন্ত্র শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কার্যকর হয়ে ওঠে।
