হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ জব্দ করল মার্কিন বাহিনী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর থামার সংকেত ও সতর্কতা উপেক্ষা করে ইরানি কার্গো জাহাজটি এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ‘তুসকা’ নামের জাহাজটি জোরপূর্বক জব্দ করে। অন্যদিকে ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে একে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেছে এবং দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে তেহরান এখনো এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে, শেহবাজকে জানালেন পেজেশকিয়ান
ট্রাম্প আরো বলেন, প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ এবং একটি রণতরির সমান ওজনের ‘তুসকা’ জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, জাহাজটিকে থামাতে একাধিক সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হয়। ফলে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে সেটিকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয়।
তিনি জানান, ‘তুসকা’ জাহাজটি পূর্বে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে মার্কিন ট্রেজারির নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর ভেতরের মালামাল পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় মার্কিন নৌবাহিনী একটি কার্গো জাহাজকে জোরপূর্বক আটক করছে। ফুটেজে ইরানি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির শীর্ষ সামরিক সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়ার এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওমান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে, এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর করেছে এবং মেরিন সেনা পাঠিয়ে জাহাজটি দখল করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জবাব দ্রুতই দেওয়া হবে এবং প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয় এবং কয়েক দফা হামলার পর দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
