হত্যা মামলায় ফের রিমান্ডে মাসুদ চৌধুরী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানিতে বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং এর আগে দু’দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তিনি আদালতের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রিমান্ড না দেওয়ার আবেদন জানান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরো পড়ুন : বিচারপতি মানিক ও ঢাবি অধ্যাপক জামালকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ৫০০ থেকে ৭০০ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার এক বছর পর, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিরপুর থানায় এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার এক মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। পরবর্তীতে একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
