জ্বালানিমন্ত্রী ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’: আমির হামজা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে খুতবার আগে এ মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য।
তার ওই বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী তা না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হামজা বলেন, এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করেন তারা ধর্মবিদ্বেষী কি না।
আমির হামজা বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।
আরো পড়ুন : বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন। মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।
এদিকে, মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন ৩ দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাঁকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটি ক্রিমিনাল অফেন্স।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।
হামজার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে। ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই দেশ স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, উনার কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে কি পাকিস্তান ইসলামবিদ্বেষী ছিল? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল? প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য হয়নি, বরং সকল ধর্মের মানুষ দেশকে মুক্ত করতে একসঙ্গে লড়াই করেছে।
তিনি মন্তব্য করেন, আমির হামজা এখন কেবল ইসলামী বক্তা নন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশে অনেক রাজনৈতিক বক্তা এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন—এসব আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।
এ বিষয়ে জানতে আমির হামজার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
