×

ভারত

২২ হাজার কোটি রুপি লোকসানে এয়ার ইন্ডিয়া

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

২২ হাজার কোটি রুপি লোকসানে এয়ার ইন্ডিয়া

ছবি : সংগৃহীত

টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ২২ হাজার কোটি রুপি (প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার) লোকসানের মুখে পড়েছে। সংস্থাটি আগে যেখানে ১.৬ বিলিয়ন ডলার লোকসানের পূর্বাভাস দিয়েছিল বাস্তব চিত্র তার চেয়েও বেশি ভয়াবহ বলে জানা গেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল ক্ষতি সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়া এখন আবারও তার মালিকদের কাছে জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাটা গ্রুপ এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫.১ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স উভয় পক্ষই নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত অর্থসংস্থান কোম্পানিটির চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নাও হতে পারে। এতে অতিরিক্ত অর্থের জন্য বিকল্প উৎস খোঁজার প্রয়োজন হতে পারে।

এই সংকটের প্রভাব টাটা গ্রুপের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারিতেই জানা যায়, টাটা গ্রুপ চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরনের তৃতীয় মেয়াদ অনুমোদনের অন্যতম শর্ত ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও লোকসান নিয়ন্ত্রণ। খবর আউটলুক বিজনেসের।

আরো পড়ুন : বিবিসিতে ২১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা

অন্যদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সও এই ক্ষতির প্রভাব অনুভব করছে। ২০২৪ সালে ভারতের ভিস্তারাকে এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এই যৌথ ব্যবসায় যুক্ত হয়। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্বল পারফরম্যান্স এখন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মুনাফার ওপরও চাপ তৈরি করছে।

অথচ বছরের শুরুটা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহগুলোতে এয়ার ইন্ডিয়া কিছুটা অপারেটিং মুনাফাও অর্জন করেছিল। কিন্তু এরপর একের পর এক সংকট পরিস্থিতিকে দ্রুত অবনতির দিকে নিয়ে যায়।

মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান তার আকাশপথ ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বন্ধ করে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপগামী এয়ার ইন্ডিয়ার দীর্ঘপথের ফ্লাইটগুলোকে ঘুরপথে চলতে হয়। এতে জ্বালানি ও সময় ব্যয় বেড়ে যায় এবং লাভজনকতা কমে যায়।

এরপর জুন মাসে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হয়ে ২৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময়েই কোম্পানির আর্থিক অবস্থা নাজুক ছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয় তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এ অঞ্চলে এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যবসার প্রায় ১৬ শতাংশ নির্ভরশীল কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই রুটগুলোতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী ফ্লাইটগুলো আবারও দীর্ঘ ঘুরপথে চলায় ব্যয় বেড়ে যায়। একই সময়ে জেট ফুয়েলের দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও কঠোর ভিসা নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে যাত্রী চাহিদা কমে যায়, যা আয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে কোম্পানিটি নির্ধারিত ব্রেক-ইভেন লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আর্থিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা পিছিয়ে গেছে।

সংকটের মধ্যে নেতৃত্বের অস্থিরতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সম্প্রতি সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে পদত্যাগ করবেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে কোম্পানি কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থার মুখে পড়ছে।

এদিকে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের (ডিজিসিএ) সাম্প্রতিক অডিটে নিরাপত্তা সূচকে এয়ার ইন্ডিয়া সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। বহর সম্প্রসারণ ও বড় পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও এই দুর্বল নিরাপত্তা রেকর্ড কোম্পানিটির জন্য বড় ধরনের ভাবমূর্তির সংকট তৈরি করেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রায়গঞ্জে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রায়গঞ্জে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন

চাঁদার দাবিতে পিকআপ চালককে বৈদ্যুতিক শক দিলো যুবদল নেতা

চাঁদার দাবিতে পিকআপ চালককে বৈদ্যুতিক শক দিলো যুবদল নেতা

নাটোরে ৩২ পাম্পে একযোগে ফুয়েল কার্ডে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু

নাটোরে ৩২ পাম্পে একযোগে ফুয়েল কার্ডে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App