জলাতঙ্ক টিকার সংকট, মজুত নিয়ে বিভ্রান্তি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
কুকুরে কামড়ানো ছেলেকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান মুন্সীগঞ্জের শ্রমজীবী রুবি আক্তার। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, জলাতঙ্কের কোনো টিকা নেই, বাইরে থেকে কিনতে হবে। বাধ্য হয়ে এক ঘণ্টা ঘুরে ধার করা টাকা দিয়ে ৯০০ টাকায় টিকা কিনে আনেন তিনি।
রুবি আক্তার বলেন, আমি দিনে ৩০০ টাকা মজুরি পাই। এত দামের টিকা কেনা আমার পক্ষে সম্ভব না। পরে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে টাকা ধার করে কিনেছি। পরে তার ছেলেকে টিকা দেওয়া হলেও পরবর্তী ডোজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।
দেশে যখন হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু বাড়ছে, তখন জলাতঙ্কের মতো শতভাগ প্রাণঘাতী রোগের টিকার সংকট নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। অথচ কুকুর বা বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্তদের জন্য এই টিকা অত্যন্ত জরুরি।
জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দুটি টিকা ব্যবহৃত হয়—অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) এবং র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি)। এর মধ্যে গুরুতর ক্ষতের ক্ষেত্রে আরআইজি প্রয়োজন হলেও সরকারি পর্যায়ে এই টিকার সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।
মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন কুকুর বা বিড়ালের কামড় নিয়ে আসলেও অনেকেই সরকারি টিকা পান না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে সরবরাহ না থাকায় এবং আলাদা বাজেট না থাকায় নিজস্ব তহবিল দিয়ে সীমিত পরিসরে টিকা কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, আমরা সীমিত টিকা দিয়ে রেশনিং করছি। যাদের জরুরি প্রয়োজন বা একেবারে দরিদ্র, তাদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে দিচ্ছি।
আরো পড়ুন : হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
জেলার বাইরে উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ। অনেক জায়গায় কোনো টিকাই পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন টিকার ‘বাফার স্টক’ বা অতিরিক্ত মজুত নেই। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন, দেশে কোনো টিকার সংকট নেই এবং ছয় মাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তার এই বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার বাফার স্টক না থাকাটা বড় ঝুঁকির বিষয়। এতে হামের মতো অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়াও এই সংকটের অন্যতম কারণ। এই পরিকল্পনার আওতায় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকা ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনেও টিকার সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।
