বিদ্যুৎ বিলে ‘তুঘলকি কাণ্ড’
কৃষক পরিবারের বিল লাখ টাকা
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক কৃষক পরিবারের বিদ্যুৎ বিলে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মার্চ মাসে ৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৭ হাজার ইউনিট দেখিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টের ভিত্তিতে সরেজমিনে পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুব নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক হারুনুর রশীদের টিনশেড বাড়িতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। বাড়িতে রয়েছে তিনটি বাতি, দুটি ফ্যান ও একটি পানি তোলার মোটর। হারুন ও তাঁর স্ত্রী সেখানে বসবাস করেন। প্রয়োজন ছাড়া তেমন বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না বলেই দাবি তাঁর।
হারুনুর রশীদ জানান, মিটারটি তাঁর বোনের নামে হলেও তিনি নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বিল ছিল যথাক্রমে ৮৮ ও ৯২ টাকা। মার্চ মাসের বিল হাতে পেয়ে গত শনিবার তিনি জালিয়াপাড়া বাজারে পরিশোধ করতে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। বিলের কাগজে অস্বাভাবিক অঙ্ক দেখে এক মোবাইল ফাইন্যান্স সেবাদাতা তাঁকে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সকালে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা হারুনের বাড়িতে গিয়ে বিলের কাগজ নিয়ে যান এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেন।
রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ বলেন, মিটার রিডিং নোটে ৭০ ইউনিটের পরিবর্তে ভুলবশত ৭ হাজার ইউনিট লেখা হওয়ায় এ বিল তৈরি হয়েছে। বিলটি সংশোধন করে নতুন কপি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে সতর্কতা নেওয়া হবে।
এদিকে, মিটার না দেখে রিডিং নেওয়া এবং অতিরিক্ত রিডিং দিয়ে বিল করার অভিযোগ নতুন নয় বলে স্থানীয়রা জানান। দীঘিনালা ও পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় গ্রাহকদের বিক্ষোভ হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটে। সিস্টেম লস সমন্বয় ও বিলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ থেকেও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
