ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য, ভুয়া খারিজে নিঃস্ব হচ্ছে মালিকরা
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে শক্তিশালী ভূমি দালাল চক্র। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের হাতে ভুয়া খারিজ ধরিয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এই জালিয়াতি চক্রের দৌরাত্ম্য বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি দড়ি মির্জানগর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মোসলেম মিয়ার একটি খারিজে অনিয়ম ধরা পড়ে। খারিজে দাগ ও খতিয়ান নম্বর সঠিক থাকলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার নাম ও স্বাক্ষর ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নথিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ইয়াসমিন সুলতানার নাম উল্লেখ থাকলেও মেঘনা উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই নামে কোনো কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব পালন করেননি।
ভুক্তভোগী মোসলেম মিয়া অভিযোগ করেন, শেখেরগাঁও গ্রামের আল-আমিন মুক্তারের সহকারী মাহাবুব হোসেন এ ভুয়া খারিজ তৈরির সঙ্গে জড়িত। নামজারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় বড় লক্ষ্মীপুর মৌজার ৩৩ শতক জমির খারিজ করতে তিনি মাহাবুবের শরণাপন্ন হন। কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। প্রায় চার মাস পর দেওয়া খারিজে শুরুতে কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়লেও পরে অনলাইনে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, পুরো নথিটিই ভুয়া। খারিজে খতিয়ান নম্বর ২৬-৪৪৫৬ এবং দাগ নম্বর ৫৪৮৪, ৫৪৮৫ ও ৫২৭১ উল্লেখ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ সরাসরি গেলে সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়, কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের দ্বারস্থ হন। এছাড়া ভুয়া খারিজ শনাক্ত করার সহজ ও কার্যকর কোনো পদ্ধতি না থাকায় অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এমনকি অনলাইনে যাচাই করলে আসল ও নকল খারিজের পার্থক্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। তবে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়তে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহাবুব হোসেন প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি আক্তার ভোরের কাগজকে বলেন, “আমি ভুক্তভোগীকে বলবো একটি লিখিত অভিযোগ দিতে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
