×

চট্টগ্রাম

পাম্পে তেল নেই, খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন চালকরা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪২ এএম

পাম্পে তেল নেই, খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন চালকরা

ফাইল ছবি

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মফস্বলের খুচরো দোকান থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত কোথাও জ্বালানি তেল মিলছে না। 

হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি তেল না পেয়ে খালি হাতে ফেরার অভিযোগ করেছেন চালকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে মনোহরগঞ্জের মফস্বল এলাকার বাজারগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা দোকানগুলোতে না পেয়ে চালকরা ছুটছেন প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের লাকসাম উপজেলার এম.আর. ফিলিং স্টেশনে। তবে অনেকেই সেখানে গিয়ে জানতে পারছেন, পাম্পটিতেও পেট্রোল বা অকটেনের মজুত নেই। ফলে বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালকরা জানান, ২২ মার্চ সকাল থেকেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে ২১ মার্চ ঈদের দিন অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও লিটারপ্রতি দেড় শতাধিক টাকায় বিক্রির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে উপজেলাজুড়ে পরিবহন চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট পরিবহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়ছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও।

মোটরসাইকেল চালক নাছির উদ্দিন জানান, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পেট্রোল পাম্প নেই। এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তেল নিয়েই তারা দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করেন। কখনো বেশি তেলের প্রয়োজন হলে পাশ্ববর্তী লাকসাম উপজেলার এম.আর. ফিলিং স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

তিনি বলেন, রোববার সকালে নিজ এলাকায় তেল না পেয়ে ওই পাম্পে গেলে সেখানে একটি সাইনবোর্ডে লেখা দেখতে পান—“মজুত শেষ হওয়ার কারণে পেট্রোল/অকটেন সরবরাহ বন্ধ।” পরে সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরে আসতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, লাকসামে কদাচিৎ দু-একটি দোকানে অকটেন পাওয়া গেলেও লিটারপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মেসার্স এম.আর. ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ডিপো থেকে সরবরাহ পাওয়া সাপেক্ষে পুনরায় তেল বিক্রি শুরু হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে পাম্পে তেল নেই, বাজারে পেট্রোল ৩৫০ টাকা

এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ঠাকুরগাঁও জেলায়ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তেলের জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন ক্রেতারা। কোথাও সীমিত পরিমাণ তেল এলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও তেল না পেয়ে গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছেন।

তবে পাম্পে তেল না মিললেও একই সময়ে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে অতিরিক্ত দামে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। এই বৈপরীত্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা, বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক যানবাহন তেল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, রুহিয়া রামনাথ হাটে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৭০ টাকা, সেনিহারী বাজারে ৩৫০ টাকা, ঢোলারহাটে ৩১০ টাকা, আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি বাজারে ২৫০ টাকা, রাণীশংকৈল চেকপোস্ট বাজারে ২৩০টাকা, ধনিরহাটে ৩০০ টাকা, ভরনিয়া বাজারে ৩২০ টাকা, বাদামবাজারে ২৮০ টাকা, সনগাঁও বাজারে ৩০০ টাকা, লাহিড়ী বাজারে ২৬০ টাকা, কাচকালী বাজারে ৩০০ টাকা, পল্লীবিদ্যুৎ বাজারে ২৮০ টাকা এবং কাউন্সিল বাজারে ২৫০ টাকায় তেল বিক্রি হচ্ছে।

অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৫০-৬০ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দল স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে অন্তত দুইজন স্টাফ আহত হন। একই রাতে শহরের বিসিক এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। অভিযোগ ছিল মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছিল।

এছাড়াও শহরের আরেকটি ফিলিং স্টেশনে তেল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ছবি ধারণে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে তেল মজুত ও বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

গায়ে হলুদ শেষ না হতেই বরের মৃত্যু

গায়ে হলুদ শেষ না হতেই বরের মৃত্যু

ঝুঁকিতে প্রবাসীরা, রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ঝুঁকিতে প্রবাসীরা, রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার শঙ্কা

পর্দার আড়ালে কারিশমা-রাভিনার নীরব ‘স্টাইল যুদ্ধ’

পর্দার আড়ালে কারিশমা-রাভিনার নীরব ‘স্টাইল যুদ্ধ’

দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশি ৪ ক্রিকেটার

দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশি ৪ ক্রিকেটার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App