জলাবদ্ধতায় মহারাজপুর বিলের ফসলের হানি

কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:১৫ পিএম


খুলনার কয়রার মহারাজপুর ও মদিনাবাদ বিলের পানি সরবরাহের সংযোগ স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতার কবলে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির ফসলহানি হয়ে চলেছে। প্রতিকার চেয়ে মহারাজপুর মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজীবী জমি মালিকদের পক্ষে মোস্তফা শামিম আহমেদ মুকুল ও মদিনাবাদ মৌজার মো: মুজিবর রহমান বাদী হয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরোজমিন গেলে স্থানীয় কৃষকরা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে বর্ষা মৌসুমে বৃহত্তর মহারাজপুর বিলের পানি বড় দেউলিয়া খাল হয়ে শাকবাড়িয়া নদীতে যেত, কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎ বড় দেউলিয়া খালের সংযোগ স্থানে বাঁধ দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে সেখানে মাছের চাষ করছেন। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বৃহত্তর বিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির একমাত্র আমন ফসল নষ্ট হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরশাদ গাজী বলেন আষাঢ় শ্রাবণে ধান রোপনের কথা থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে আশ্বিনে ধান রোপন করতে হয় জমিতে বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ৫/৭ মন ধান পাই,অথচ দশ বছর আগে এই জমিতে ২০/২৫ মন ধান হত। তাতে করে এক আবাদেই কৃষকের আর্থিক সমৃদ্ধি আসত।
মহারাজপুর বিলে ২৫ বিঘ জমি রয়েছে কৃষক শামীম সানার। তার অভিযোগ স্থানীয় রশিদ গাজী আতিয়ার রহমান সহ কতিপয় ব্যক্তি পানি সরবরাহের নালা গুলি সরকারের নিকট থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে পুকুর খনন করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বৃহত্তর এই বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলহানি ঘটছে, এতে করে আমরা কৃষকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছি। একই অভিযোগ করেন কৃষক রশিদ গাজী, শফিকুল সানা, আরশাদ গাজী, আব্বাস গাজী, মোস্তফা সহ অনেকেই।
মদিনাবাদ মৌজার কৃষক মুজিবর রহমান গাজী বলেন, স্থানীয় এনসার আলী সানা মদিনাবাদ বিলের পানি সরবরাহের রান্না খালি খালটি বন্দোবস্ত মূলে প্রাপ্ত হয়ে দলিলের শর্ত ভঙ্গ করে বিক্রয় করায় সেখানে বাঁধ দিয়ে বিলের পানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে পাকা ঘর বাড়ি নির্মাণ করেছে ফলে বর্ষা মৌসুমে মদিনাবাদ বিলের পানি সরবরাহ না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রতিবছর ফসলহানি সহ যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি বন্দোবস্ত কারীগণ ভূমিহীন হিসাবে এক নং খাস খতিয়ানের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দলিলের শর্ত লংঘন করে জমি বিক্রয় হস্তান্তর এওয়াজ বিনিময় করে পানি সরবরাহের নালা গুলো বন্ধ করে বৃহত্তর ক্ষতিসাধন করায় উল্লেখিত ব্যক্তিদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকৃত জমির দলিল বাতিল পূর্বক অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন হলে বৃহত্তর এলাকার হাজার হাজার কৃষক ব্যাপক লাভবান হবে এবং দেশ সমৃদ্ধশালী হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, কৃষকরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন, জেলা প্রশাসন আমার কাছে প্রতিবেদন চাইলে আমি সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেব।
